Vromon Blog

Tour Site

ঢাকা থেকে প্রায় ৪১৪ কি: মি: এবং চট্রগ্রাম থেকে ১৫২ কি:মি: দক্ষিণে অবস্থিত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।কক্সবাজারের প্রাচীন নাম পানোয়া যার অর্থ হলুদ ফুল। সম্রাট শাহ সুজা একহাজার পালঙ্কী নিয়ে আরাকান যাওয়ার পথে কক্সবাজারের সৈান্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সেখানে অবস্থান করেন সে থেকে এলাকাটির নাম হয় ডুলাহাজরা বা হাজার পালঙ্কি। কক্সবাজারকে পালংকি নামেও অনেকে চেনে।
কক্সবাজার নামটি আসে মুলত হিরাম কক্স এর নাম অনুসারে।১৭৭৩ সনে হিরাম কক্স পালংকির গভর্নর হয়ে আসেন।এক সময় হিরামকক্স খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেন,তাকে স্মরণীয় করে রাখতে সেখানে একাট বাজার প্রতিষ্ঠা করা হয় যার নাম দেয়া হয় কক্স সাহেবের বাজার যা পরবর্তি কালে কক্সবাজারে রুপ নেয়।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষনীয় স্থান। বিস্তীর্ণ বেলাভূমির বালুময় সৈকতটি দৈর্ঘে প্রায় ১২০ কি:মি: যা বিশ্বে অন্যতম। পুরু সৈকতে কোথাও কাঁদা নেই।ঝাউবন,পাহাড়,ঝর্ণা আর নীল জলরাশির বিশাল ঢেউ আপনাকে করবে শিহরিত এবং মুগ্ধ।ভোরে সুর্যোদয় সন্ধায় সুর্যাস্তের মনোমোগ্ধকর সৌন্দর্য ভ্রমন পিপাসুদের মোগ্ধ করবেই।কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে এসে বুক ভরে নিশ্বাস নিতে পারেন নিশ্চিন্তে কারন এ স্থানটি বাংলাদেশের একমাত্র স্বাস্থ্যকর স্থান।
কক্সবাজার এসে আরও উপভোগ করতে পারেন, হিমছড়ি, কুতুবদিয়া দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ,ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক,লাবণী পয়েন্ট,রামু রাবার গার্ডেন,ইনানী বীচ,নাইক্ষ্যংছড়ি লেক,কলাতলী বীচ,রামু বৌদ্ধ বিহার,রেডিয়েন্ট ফিস একুরিয়াম এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপ।
অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত কক্সবাজার ভ্রমণের প্রকৃত সময় এ সময় গরম ও বৃষ্টি থাকে না বল্লেই চলে।এ সময়টা কক্সবাজারের পিক সিজন,পর্যটকদের সমাগম বেশি থাকে।
সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ আনন্দের সাথে আরও যোগ করতে পারেন,বীচ ফটোগ্রাফি,স্পিডবোর্ড,বীচ বাইক,প্যরাসেইলিং করে এতে আপনার ভ্রমণ আনন্দ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

কি ভাবে যাবেন

কি ভাবে কম খরচে যাবেন :

কম খরচে কক্সবাজার যেতে চাইলে ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম ট্রেনে যেতে পারেন তূর্ণা-নিশীথা,চট্রগ্রাম মেইল,সুবর্ণ এক্সপ্রেস,মহানগর প্রভাতী,গোধূলী। এরপর চট্রগ্রাম থেকে কক্সবাজারের নন এসি বা লোকাল বাস পাওয়া যায় ভাড়া হতে পারে ১০০ থেকে ২০০ টাকা।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার সরাসরি নন এসি বাস রয়েছে হানিফ এন্টারপ্রাইজ,শ্যামলী,সৌদিয়া,এস আলম ভাড়া হতে পারে৭০০ থেকে ১০০০ টাকা।

কি ভাবে বিলাসবহুল ভাবে যাবেন :

একটু অরাম দায়ক ভাবে যেতে চাইলে এসি বাস গুলো বেছে নিতে পারেন সৌদিয়া,দেশ ট্রাভেল্স সোহাগ,গ্রীন লাইন, ভাড়া হতে পারে ১৬০০ থেকে ২০০০।
বিলাসবহুল ভাবে যেতে চাইলে মাইত্রেুাবাস রিজার্ভ নিতে পারেন ভাড়া হতে পারে ১২০০০ থেকে ২০০০০ টাকা।এবং চাইলে বিমানে যেতে পারেন বাংলাদেশ বিমান,ইউ এস বাংলা,নোভো এয়ার,সময় লাগবে ৫৫-৬০ মিনিট ভাড়া হতে পারে ৮০০০ থেকে ১৫০০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

কি ভাবে কম খরচে থাকবেন :

কম খরচে থাকতে চাইলে যেতে হবে অফ পিক সিজনে এমনকি ছুটির দিন ছাড়া এবং থাকতে পারেন নিম্ন মানের হোটেল গুলোতে বীচ থেকে একটু দূরে।সাধারনত অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত পিক সিজন এর বাইরে যে কোন সময় যেতে পারেন।নিম্ন ও মাঝারি মানের হোটেল গুলো বেছে নিতে পারেন।
মোটেল প্রবাল,ভাড়া হতে পারে ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা যোগাযোগ করতে পারেন ০৩৪১৬৩২১১।
হোটেল উপল, ভাড়া হতে পারে ১,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকা যোগাযোগ করতে পারেন ০৩৪১৬৪২৫৮।
হোটেল সী কক্স, ভাড়া হতে পারে ৩,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮৪৩৬৩১০৭৭।
হোটেল হায়পারিয়ন সী ওয়াল্ড, ভাড়া হতে পারে ৪,০০০ থেকে ৫,৫০০ টাকা যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮১৯৩৩৫৩১৩।

কি ভাবে বিলাসবহুল ভাবে থাকবেন :

বিলাসবহুল ও আরাম দায়ক ভাবে থাকতে চাইলে বেছে নিতে পারেন বিশ্বমানের ৫ স্টার,৪ স্টার, বা ৩ স্টার হোটেল গুলো কক্সবাজারের হোটেল গুলোর সেবার মান ও নিরাপত্তা ব্যাবস্থা অনেক ভালো।
ওসান প্যারাডাইস হোটেল এন্ড রিসোর্ট ভাড়া হতে পারে ৮,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০১৯৩৮৮৪৬৭৬১।
রয়াল টিউলিপ সী পার্ল বীচ রিসোর্ট এন্ড স্পা ভাড়া হতে পারে ১০,০০০ থেকে ১,২০০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮৪৪০১৬০০১।
সায়মন বীচ রিসোর্ট ভাড়া হতে পারে ১,০০০০ থেকে ৫,০০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০৯৬১০৭৭৭৮৮৮।
লং বীচ হোটেল ভাড়া হতে পারে ৮,০০০ থেকে ৫,০০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭৫৫৬৬০৫১।
সীগ্যাল হোটেল ভাড়া হতে পারে ৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০৩৪১৬২৪৮০।
হোটেল সী ক্রাউন ভাড়া হতে পারে ৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০১৫৫০৬৮৯৫১।
হোটেল দ্যা কক্স টুডে ভাড়া হতে পারে ৮,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন০১৭৫৫৫৯৮৪৫০।

কি খাবেন

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমণে এসে খেতে পারেন নানারকম মুখরুচক খাবার খেতে পারেন বিভিন্ন রকম সামুদ্রিক মাছের বারবিকিউ।বারবিকিউ এর জন্য পছন্দ মত তাজা মাছ কিনে বারবিকিউ অর্ডার করতে পারেন। সকল রেস্টুরেন্টে সব ধরনের খাবার সাজানো থাকে আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ি অর্ডার করে নিতে পারেন।

কি ভাবে কম খরচে খাবেন :

কম খরচে খাওয়ার জন্য মধ্যম মানের রেস্টুরেন্টে গুলো বেছে নিতে পারেন যেমন নিরিবিলি, ঝাউবন, ধানসিঁড়ি,রোদেলা ইত্যাদি খাবার আগে দরদাম করে নিলে ভাল হবে।অবশ্যই বীচ থেকে একটু দূরের রেস্টুরেন্টে গুলো বেছে নিতে হবে।

কি ভাবে বিলাসবহুল ভাবে খাবেন :

বিলাসবহুল ভাবে খেতে চাইলে হোটেল বা রিসোর্ট গুলোতেই খাবার অর্ডার করতে পারেন ওরাই আপনার ম্যানু অনুযায়ী সময় মত খাবার পরিবেশন করবে। হান্ডি রেস্তোরা থেকে হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি খেতে পারেন। এছাড়া কেএফসি তে যেতে পারেন মন চাইলে।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন !

অত্যান্ত সতর্কতার সাথে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভূগ করুন।জোয়ার-ভাটার সঠিক সময় জেনে পানিতে নামুন। মোবাইল বা ক্যামেরার স্পেয়ার ব্যাটারি ও চার্জর রাখুন ।মিনি মাল্টিপ্লাগ রাখতে ভুলবেন না । স্টুরিস্ট পুলিশ বা বিজিবির সহায়তা নিন।ঝামেলায় পড়লে জরুরি নাম্বার 999 এ কল করুন।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন না !

কোন অবস্থাতে দালালের সরনাপন্ন হবেন না।সাঁতার না জানলে পানিতে নামবেন না।কোন অনৈতিক-অসামাজিক কাজ করবেন না।পলিথন, প্লাস্টিকের বোতল চিপ্স এর খালি পেকেট যেখানে সেখানে ফেলবেন না। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ করবেন না।

—- আপনার ভ্রমন হোক আনন্দময়। —-

3 thoughts on “কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত – Coxbazar Sea Beach

  1. You ought to be a part of a contest for one of the highest quality blogs online. I most certainly will highly
    recommend this blog!

  2. I’ve been surfing online for more than 2 hours today,
    yet I never found any interesting article like yours.
    It is pretty worth enough for me. Personally, if all site owners
    and bloggers made good content as you did, the internet will be a lot more useful
    than ever before.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *