Vromon Blog

Tour Site

সাজেক (sajec) ভ্যালী ভ্রমণ পিপাসু প্রকৃতি প্রেমিদের জনপ্রিয় একটি নাম। বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি ইউনিয়ন সাজেক।সাজেকের আয়তন ৭২০ বর্গমাইল, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন সাজেক।
সাজেকে দুটি পাড়া রয়েছে রুইলুইপাড়া এবং কংলাক পাড়া,সমুদ্র থেকে রুইলুই পাড়ার উচ্চতা ১৭২০ ফুট এবং কংলাক পাড়ার উচ্চতা ১৮০০ ফুট।সাজেক ভ্যালী থেকে রাঙামাটির অনেকাংশ দেখা যায়।
প্রায় সারা বছর সাজেক ভ্রমণ করা যায়, সাজেক ভ্রমণ অনেক নিরাপদ এখানে রয়েছে সাজেক বিজিবি ক্যাম্প।সাজেকের পর্যটকদের সকল ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।সাজেকে রাস্তাধস ও পাহাড়ধসের ঝুকি নেই।সাজেকে তিন প্রজাতির আদিবাসি বাস করে ত্রিপুরা, পাংখুয়া ও লুসাই এবং এরা খুব বন্ধুসুলভ।
সাজেক এর দূরত্ব খাগড়াছড়ি জেলা থেকে প্রায় ৭০ কলোমিটার ও দীঘিনালা থেকে ৪৯ কিলোমিটার।সাজেক যেতে হলে অবশ্যই বাঘাইহাট পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্প হয়ে যেতে হবে।ক্যাম্পে সকল তথ্য দিয়ে সাজেক যাবার অনুমতি নিতে হয় একে আর্মি এসকর্ট বলা হয়।দিনে দুই বার আর্মির গাড়িবহর দ্বারা পর্যটকদের গাড়িগুলো সাজেক পৌছে দেয়া হয়।
সাজেকগামী গাড়ি গুলো চান্দের গাড়ি নামে পরিচিত।সাবধান পাহাড়ী রাস্তায় গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা নাই এমন চালক দিয়ে গাড়ি চালাবেন না।প্রয়োজনে চান্দের গাড়ি ভাড়া নিন।
উপরে নীল আকাশ নিচে পাহাড় আর সবুজের সমারুহ যান্ত্রিক জীবন থেকে বেড়িয়ে অজানা এক জায়গায় হারিয়ে যাওয়ার প্রয়াস।সাজেক যেন মন ভুলানো মেঘের উপত্যকা, পরক্ষনেই বৃষ্টি একটু পরেই আবার গরম এযেন এক মনমাতানো খেলা।আবার সাজেক থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের অপরুপ সৌন্দর্য উপভুগ করতে পারবেন।তাছাড়া সাজেক গিয়ে আরও উপভূগ করতে পারেন হেলিপ্যাড,সেলফী ব্রিজ,হাজাছড়া ঝর্ণা,রিসাং ঝর্ণা,আলুটিলা গুহা তাই সাজেক বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ।

কিভাবে সাজেক যাবেন-


ঢাকা থেকে সাজেক যেতে চাইলে বেছে নিতে পারেন শ্যামলী, হানিফ, সৌদিয়া, সেন্টমার্টিন পরিবহন, এস আলম, বিআরটিসি গাড়ি গুলো যেতে পারবেন খাগড়াছড়ি পর্যন্ত ভাড়া হতে পারে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। একমাত্র শান্তি পরিবহন দিঘীনালা পর্যন্ত যায়। দিঘীনালা থেকে চান্দের গাড়ি রিজার্ভ নিয়ে সাজেক যেতে হবে জনপ্রতি ভাড়া হতে পারে ৩০০ টাকা।তাছাড়া দিঘীনালা থেকে সিএনজি অথবা মোটর সাইকেল ভাড়া নিতে পারেন এগুলো নিরাপদ নয়।
চট্রগ্রাম থেকে সাজেক যেতে চাইলে কদমতলী থেকে বিআরটিসি বাসে যেতে পারেন খাগড়াছড়ি ভাড়া হতে পারে ২০০ টাকা। তাছাড়া অক্সিজেন মোড় থেকে শান্তি পরিবহনে যেতে পারেন খাগড়াছড়ি, খাগড়াছড়ির দিঘীনালা থেকে চান্দের গাড়ি এক মাত্র ভরসা।
রাঙামাটি থেকে সাজেক যেতে চাইলে রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার থেকে যেতে পারেন, সকাল ৭.৩০ মিনিটে লঞ্চ ছেড়ে যায় বাঘাইছড়ি ভাড়া হতে পারে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। বাঘাইছড়ি থেকে বাসেও যেতে পারেন ভাড়া হতে পারে ২৫০ টাকা তবে বাসে গেলে সময় একটু বেশি লাগবে।


কিভাবে কম খরচে সাজেক যাবেন-


কম খরচে সাজেক যেতে চাইলে ৮ থেকে ১০ জনের গ্রুপ করে যেতে পারেন সব জায়গাতে খরচ কমে যাবে ও আনন্দ বেশি হবে।অথবা সিঙ্গেল গেলে চান্দের গাড়ি শেয়ারিং করে খরচ কমাতে হবে অথবা জিপ সমিতির অফিসে কথা বলে অন্য গ্রূপ এর সাথে এড হতে পারেন।


কিভাবে বিলাসবহুল ভাবে সাজেক যাবেন-


বিলাসবহুল ভাবে সাজেক যেতে চাইলে ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম বিমানে অথবা প্রাইভেটকার রিজার্ভ করে যেতে পারেন। খাগড়াছড়ির দিঘীনালা থেকে চান্দের গাড়ি এক মাত্র ভরসা।
যেখান থেকে যেভাবেই যান মনে রাখতে হবে দিঘীনালায় সকাল ৯ টায় আপনাকে থাকতে হবে আর্মি ক্যাম্প থেকে আর্মি এসকর্ট নিতে হয় দিনে দুই বার আর্মির এসকর্ট পাওয়া যায় সকাল ৯.৩০ মিনিটে একবার ২.৩০ মিনিটে আর একবার। সকালের এসকর্ট মিস করলে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে আর দুপুরের এসকর্ট মিস করলে পরদিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কোন অবস্থাতে আর্মি এসকর্ট ছাড়া সাজেক যেতে পারবেন না।


কেথায় থাকবেন-


কিভাবে কম খরচে সাজেক থাকবেন-


সাজেকে সবচেয়ে কম খরচে থাকতে চাইলে আদিবাসিদের ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে পারেন জনপ্রতি ভাড়া হতে পারে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।
কম খরচে গ্রুপম্যাট দের নিয়ে থাকতে চাইলে ইমানুয়েল রিসোর্র্টটি বেছে নিতে পারেন,যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮৬৯৪৯০৮৬৮।
সাজেকে কম খরচে থাকতে চাইলে লুসাই কটেজে থাকতে পারেন ভাড়া হতে পারে ২০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা যোগাযোগ করতে পারেন ০১৬৩৪১৯৮০০৫।
মেঘ মাচাং রিসোর্টটি বেছে নিতে পারেন ভাড়া হতে পারে ৩০০০ থেকে ৪০০০ টাকা যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮২২১৬৮৮৭৭।


কি ভাবে বিলাসবহুল ভাবে সাজেক থাকবেন-


বিলাসবহুল ভাবে সাজেক থাকতে চাইলে উঠতে পারেন সাজেক রিসোর্টে ভাড়া হতে পারে ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮৪৭০৭০৩৯৫।এখানে সরকারি কর্মচারিদের জন্য ভাল ডিসকাউন্ট রয়েছে।


কি খাবেন-


কিভাবে কম খরচে সাজেকে খাবেন-


কম খরচে সাজেকে উল্লেখ যোগ্য খাবারের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রকম ফলমূল ডাবের পানি, কলা, পেপে ,পেয়ারা,তেতুলের জুস,ব্যাম্বু চিকেন,মুরগীর মাংস,বারবিকিউ ইত্যদি।আগে থেকে অর্ডার করলে কম খরচে আদিবাসিদের ঘরে খেতে পারবেন।


কি ভাবে বিলাসবহুল ভাবে সাজেকে খাবেন-


বিলাসবহুল ভাবে সাজেকে খেতে চাইলে যেই রিসোর্টে উঠবেন সেই রিসোর্টে আগেই অর্ডার করে রাখবেন অপনার পছন্দ অনুযায়ী খাবার তারা রান্না করে দেবে।


পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন !


অত্যান্ত সতর্কতার সাথে সাজেকের সৌন্দর্য উপভূগ করুন।আদিবাসিদের সাথে ভাল ব্যাবহার করুন, তাদের ছবি তোলার খেত্রে তাদের কাছথেকে অনুমতি নিন। মোবাইল বা ক্যামেরার স্পেয়ার ব্যাটারি ও চার্জর রাখুন। স্টুরিস্ট পুলিশ,সেনাবাহিনী বা বিজিবির সহায়তা নিন।ঝামেলায় পড়লে জরুরি নাম্বার 999 এ কল করুন।


পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন না !


কোন অবস্থাতে দালালের সরনাপন্ন হবেন না। আদিবাসিদের পোশাক ও কালচার নিয়ে সমালোচনা করবেন না। কোন অনৈতিক-অসামাজিক কাজ করবেন না।পলিথন, প্লাস্টিকের বোতল চিপ্স এর খালি পেকেট যেখানে সেখানে ফেলবেন না। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ করবেন না।

আপনার ভ্রমন হোক আনন্দময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *