Vromon Blog

Tour Site

জিয়া স্মৃতি জাদুঘর বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অবস্থিত। চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে এটি  অবস্থিত। এটি চট্টগ্রামের পুরনো সার্কিট হাউজ বিল্ডিং এ অবস্থিত যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুন্দর স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যগুলো উপস্থাপন করে। এটি ইংরেজ আমলের  স্থাপত্য-শৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। চট্টগ্রামের একটি অনুচ্চ পাহাড়ে ১৯১৩ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নির্মিত এটি হয়েছিল। এ জাদুঘরটি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন নির্দেশনের পাশাপাশি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি এবং তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও একটি লাইব্রেরী আছে। এছাড়াও এখানে কিছু দুর্লভ ফটোগ্রাফ সংরক্ষিত আছে। এখানেই ইতিহাসের অন্যতম একটি হত্যাকাণ্ডের কিছু নমুনা আছে। ১৯৮১ সালের ৩০ শে মে সার্কিটহাউজের ৪ নং কক্ষে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। এছাড়াও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাক বাহিনীদের টর্চার সেল হিসেবে ছিল এটি। জাঁকজমকপূর্ণ এই ভবনটি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

কিভাবে যাবেন:

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে যেতে চাইলে আপনাকে প্রথমে যেতে হবে চট্টগ্রামে বাস-ট্রেন ও আকাশ পথে সরাসরি চট্টগ্রামে যাওয়া যায়। ঢাকার সায়েদাবাদ বাস ষ্টেশন থেকে হানিফ, এস আলম, সৌদিয়া, ইউনিক, সোহাগ, গ্রীনলাইন, সিল্কলাইন, বাগদাদ এক্সপ্রেস প্রভৃতি বাসে করে চট্টগ্রামে যেতে পারেন। এসি, নন-এসি এসব বাস ভাড়া সাধারণত ৪০০ থেকে ১২০০ টাকা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ট্রেনে যেতে চাইলে প্রভাতী, মহানগর গোধুলী, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, তূর্ণা নিশিতা প্রভৃতি ট্রেনে করে যেতে পারেন।  শ্রেণীভেদে এসব ট্রেনের ভাড়া ৩৫০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। আবার আকাশপথে বাংলাদেশ বিমান, ইউনাইটেড এয়ার, নভোএয়ার, রিজেন্ট এয়ারে করে সরাসরি চট্টগ্রামে যেতে পারবেন। চট্টগ্রাম শহর থেকে জাদুঘরটির দূরত্ব ৩ কিলোমিটার চট্টগ্রামে এসে যেকোনো রিকশা বাসে করে জাদুঘরে যাওয়া যায়।

কিভাবে কম খরচে যাবেন:

ঢাকার সায়েদাবাদ বাস কাউন্টার থেকে নন এসি বাস গুলোর মধ্যে সৌদিয়া, এস আলম, হানিফ, শ্যামলী প্রভৃতি বাসে করে চট্টগ্রামে যেতে পারেন ভাড়া ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। আবার ট্রেনে ২০০ টাকার কমেও যাওয়া সম্ভব। বাস থেকে নেমে রিকশা এর সরাসরি জাদু করে যাবেন।

কিভাবে বিলাসবহুল ভাবে যাবেন:

গ্রীন লাইন, সৌদিয়া, হানিফ প্রভৃতি এসি বাসে করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যেতে পারেন। ভাড়া ৮৫০ থেকে ১২০০ টাকা। আর ট্রেনে তো বিলাসবহুল কামরা আছেই। আকাশপথে বাংলাদেশ বিমান, ইউনাইটেড এয়ার, ইউএস-বাংলা, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ করে চট্টগ্রামে যেতে পারেন। ভাড়া ৩০০০- ১০০০ টাকা ।

কোথায় থাকবেন:

জিয়া স্মৃতি জাদুঘর এর আশেপাশের চট্টগ্রাম শহরে অসংখ্য হোটেল ও রিসোর্ট হয়েছে। এ সকল হোটেলগুলোতে নিজেদের চাহিদা মত থাকতে পারবেন।

কিভাবে কম খরচে থাকবেন:

কম খরচে থাকতে চাইলে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে থাকতে পারেন। বাজেটের মধ্যে অনেক হোটেল এখানে পাবেন আর এতে এক রাতের জন্য ভাড়া সাধারণত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

কিভাবে বিলাসবহুল ভাবে থাকবেন:

চট্টগ্রাম শহরে অনেক বিলাসবহুল হোটেল ও কটেজ রয়েছে। নিচে চট্টগ্রামের কতগুলো হোটেলের নাম ও  ঠিকানা দেওয়া হলো:

১। হোটেল এশিয়ান এসআর

ঠিকানা: স্টেশন রোড, চট্টগ্রাম।

ভাড়া: নন-এসি  ১০০০ টাকা, এসি ১৭২৫ টাকা।

ফোন: ০১৭১১-৮৮৯৫৫৫

২। হোটেল প্যারামাউন্ট

ঠিকানা: স্টেশন রোড, চট্টগ্রাম।

ভাড়া: নন-এসি ৮০০-১৩০০ টাকা এবং এসি ১৪০০-১৮০০ টাকা।

ফোন: ০১৭১৩-২৪৮৭৫৪

৩। হোটেল নাভানা

ঠিকানা: রোড #৫ প্লট #৬০ ওআর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম।

ভাড়া: ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা।

ফোন: ০১৭৫৫-৫৬৪৩৮২

৪। হোটেল সাফিনা

ঠিকানা: এনায়েত বাজার, চট্টগ্রাম।

ভাড়া: নন-এসি ৭০০ টাকা, এসি ১৩০০ টাকা।

ফোন:  ০৩১০৬১৪০০৪

৫। হোটেল ল্যান্ডমার্ক

ঠিকানা: ৩০৭২ শেখ মুজিব রোড, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম।

ভাড়া: ৩২০০ থেকে ৩৪০০ টাকা।

ফোন:  ০১৭৩১-৮৮৬৯৯৭

কোথায় খাবেন:

চট্টগ্রাম শহরে মোটামুটি ভালো মানের কয়েকটা খাবারের হোটেল রয়েছে।  জাদুঘরের সামনে অনেকগুলো কাবাবের দোকান পাবেন সেখানেও খেতে পারেন। লালদীঘির কাছাকাছি সোনালী হোটেল আছে, এখানকার খাবারের মান ভালো। জিইসির মোরে কয়েকটা ভালো মানের খাবারের হোটেল রয়েছে। চকবাজার কাজেম আলী স্কুলের সামনে একটি হোটেল আছে যা গরুর মাংসের জন্য সেরা।

কিভাবে কম খরচে খাবেন:

জাদুঘরের সামনে অনেকগুলো কাবাবের দোকান পাবেন সেখানে কম খরচে খেতে পারেন। জিইসির মোরে কয়েকটা ভালো মানের খাবারের হোটেল রয়েছে সেখানেও কম খরচে খেতে পারবেন।

কিভাবে বিলাসবহুল ভাবে খাবেন:

লালদীঘির কাছাকাছি সোনালী হোটেলের খাবার গুলো বেশ ভালো। সেখানে মজাদার সব মেনু পাবেন।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন !

হোটেল-রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া এবং অন্যান্য খরচের সময় দরদাম করে নেবেন। খাবার স্যালাইন ও পর্যাপ্ত পরিমাণ পানির সাথে রাখুন। জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নাম্বারে এ কল করুন।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন না !

বিভিন্ন প্লাস্টিক প্যাকেট যেখানে-সেখানে ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না। প্রয়োজন হলে ডাস্টবিন ব্যবহার করুন। অযথা কারো সাথে তর্কে জড়াবেন না। অপরিচিত কারও দেয়া জিনিস খাবেন না। ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করবেন না।

—- আপনার ভ্রমন হোক আনন্দময়। —-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *