Vromon Blog

Tour Site

ইনানী বীচ বঙ্গোপসাগরের একটি উপকূল ভূমি। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দক্ষিনে ও হিমছড়ি পর্যটন কেন্দ্র থেকে ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এটি অবস্থিত। একপাশে সমুদ্র আরেক পাশে পাহাড়ের সৌন্দর্য এ যেন এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান হল ইনানি বীচ। কোরাল, নুড়ি পাথরের সাথে সাদা ঢেউয়ের অবিরাম মাখামাখি এজন্য সৃষ্টিকর্তার সুনিপুণ সৃষ্টি। কক্সবাজারের দীর্ঘ ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতের মধ্যে ইনানি বীচ যেন বিস্ময়কর স্থান। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে এই বীচ খুবই পরিচিত। সূর্যাস্তের সময় নয়নাভিরাম দৃশ্য ও এর আশেপাশের মনমুগ্ধকর সৌন্দর্য পর্যটকদের মন ভরিয়ে দেয়। এককথায় ইনানীকে প্রকৃতির ভূস্বর্গ বলা চলে। ইনানি বীচের বিস্তীর্ণ জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য প্রবাল পাথর। ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির এ পাথরগুলো যুগের পর যুগ ধরে টিকে আছে।তবে জোয়ারের সময় পাথরগুলো সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত থাকে। তাই ভাটার সময় পাথরগুলি বীচে জেগে ওঠে। সাধারণত বিকেলবেলায় জোয়ার থাকে তাই বিকেলে এখানে থাকাটাই উত্তম। বিকেল বেলার সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ হাতছাড়া করা পরবর্তীতে আপনার আফসোসের কারণ হতে পারে। এক পাশে সাগর এবং আরেক পাশে পাহাড় প্রকৃতির এক অপরূপ লীলাভূমি ইনানী বীচ।

কিভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে প্রথমে কক্সবাজারে যেতে হবে। সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, এস আলম, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সোহাগ পরিবহন, মর্ডান লাইন, শাহ বাহাদুর ইত্যাদি পরিবহনের এসি ও নন-এসি বাস সরাসরি কক্সবাজার যায়। ভাড়া পড়বে ৯০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। যদি ট্রেনে যেতে চান তাহলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ট্রেনে যেতে পারবেন। তারপর চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের বাসে যেতে হবে। আবার আকাশপথের নভোএয়ার, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ইত্যাদি বিমানসংস্থার বিমান ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারে যায়।এক্ষেত্রে সময় লাগে মাত্র ৪৫ মিনিট। ভাড়া ৩৫০০ থেকে ১১০০০ টাকা। এরপর কক্সবাজার থেকে ইনানী বীচে যাবার খোলা জীপ, সিএনজি ও অটোরিকশা পাবেন।

কিভাবে কম খরচে যাবেন:

ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী নন-এসি বাসে করে কক্সবাজার যেতে পারেন। ভাড়া ৯০০ টাকা। কক্সবাজার থেকে লোকাল সিএনজিতে করে জনপ্রতি ৮০ টাকা ভাড়ায় সরাসরি ইনানী বীচে যাওয়া যায়।

কীভাবে বিলাসবহুল ভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী এস আলমের মার্সিডিজ-বেঞ্জ,  গ্রীনলাইন, সৌদিয়া ইত্যাদি পরিবহনের এসি বাসে করে কক্সবাজার যেতে পারেন। ভাড়া ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আবার আকাশ পথে যেতে পারেন ক্লাস ভেদে ভাড়া ৩৫০০ থেকে ১১০০০ টাকা। কক্সবাজার থেকে ইনানী বীচে যাওয়ার জন্য জীপ রিজার্ভ  করতে পারেন। ভাড়া ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। অটোরিকশায় গেলে সারাদিনের জন্য ভাড়া লাগবে ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন:

পর্যটকদের থাকার কথা চিন্তা করে এখানে উন্নত মানের হোটেল মোটেল তৈরি করা হচ্ছে। তারমধ্যে টিউলিপ সি-পার্ল রিসোর্ট, ইনানী রয়েল রিসোর্ট, লাভেলা রিসোর্ট উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে থাকতে পারেন।

কিভাবে কম খরচে থাকবেন:

কম খরচে থাকতে চাইলে যেতে হবে অফ পিক সিজনে এমনকি ছুটির দিন ছাড়া এবং থাকতে পারেন নিম্ন মানের হোটেল গুলোতে বীচ থেকে একটু দূরে।সাধারনত অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত পিক সিজন এর বাইরে যে কোন সময় যেতে পারেন।নিম্ন ও মাঝারি মানের হোটেল গুলো বেছে নিতে পারেন।
মোটেল প্রবাল,ভাড়া হতে পারে ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা যোগাযোগ করতে পারেন ০৩৪১৬৩২১১।
হোটেল উপল, ভাড়া হতে পারে ১,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকা যোগাযোগ করতে পারেন ০৩৪১৬৪২৫৮।
হোটেল সী কক্স, ভাড়া হতে পারে ৩,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮৪৩৬৩১০৭৭।
হোটেল হায়পারিয়ন সী ওয়াল্ড, ভাড়া হতে পারে ৪,০০০ থেকে ৫,৫০০ টাকা যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮১৯৩৩৫৩১৩।

কিভাবে বিলাসবহুল ভাবে থাকবেন:

বিলাসবহুল ও আরাম দায়ক ভাবে থাকতে চাইলে বেছে নিতে পারেন বিশ্বমানের ৫ স্টার,৪ স্টার, বা ৩ স্টার হোটেল গুলো কক্সবাজারের হোটেল গুলোর সেবার মান ও নিরাপত্তা ব্যাবস্থা অনেক ভালো।
ওসান প্যারাডাইস হোটেল এন্ড রিসোর্ট ভাড়া হতে পারে ৮,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০১৯৩৮৮৪৬৭৬১।
রয়াল টিউলিপ সী পার্ল বীচ রিসোর্ট এন্ড স্পা ভাড়া হতে পারে ১০,০০০ থেকে ১,২০০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮৪৪০১৬০০১।
সায়মন বীচ রিসোর্ট ভাড়া হতে পারে ১,০০০০ থেকে ৫,০০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০৯৬১০৭৭৭৮৮৮।
লং বীচ হোটেল ভাড়া হতে পারে ৮,০০০ থেকে ৫,০০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭৫৫৬৬০৫১।
সীগ্যাল হোটেল ভাড়া হতে পারে ৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০৩৪১৬২৪৮০।
হোটেল সী ক্রাউন ভাড়া হতে পারে ৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০১৫৫০৬৮৯৫১।
হোটেল দ্যা কক্স টুডে ভাড়া হতে পারে ৮,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন০১৭৫৫৫৯৮৪৫০।

কোথায় খাবেন:

ইনানী বীচে খাবারের তেমন ব্যবস্থা নেই। তবে কক্সবাজার থেকে শুকনা খাবার সাথে নিয়ে যেতে পারেন। ইনানী বিচে অস্থায়ীভাবে কিছু খাবারের দোকান পাবেন। এছাড়াও কক্সবাজারে গিয়ে বিভিন্ন হোটেলে খাবার খেতে পারেন।

কিভাবে কম খরচে খাবেন:

কম খরচে খাওয়ার জন্য কক্সবাজারের মধ্যম মানের রেস্টুরেন্টে গুলো বেছে নিতে পারেন যেমন নিরিবিলি, ঝাউবন, ধানসিঁড়ি,রোদেলা ইত্যাদি খাবার আগে দরদাম করে নিলে ভাল হবে। অবশ্যই বীচ থেকে একটু দূরের রেস্টুরেন্টে গুলো বেছে নিতে হবে।

কিভাবে বিলাসবহুল ভাবে খাবেন:

বিলাসবহুল ভাবে খেতে চাইলে হোটেল বা রিসোর্ট গুলোতেই খাবার অর্ডার করতে পারেন ওরাই আপনার ম্যানু অনুযায়ী সময় মত খাবার পরিবেশন করবে। হান্ডি রেস্তোরা থেকে হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি খেতে পারেন। এছাড়া কেএফসি তে যেতে পারেন মন চাইলে।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন !

অত্যান্ত সতর্কতার সাথে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভূগ করুন।জোয়ার-ভাটার সঠিক সময় জেনে পানিতে নামুন। মোবাইল বা ক্যামেরার স্পেয়ার ব্যাটারি ও চার্জর রাখুন ।মিনি মাল্টিপ্লাগ রাখতে ভুলবেন না । স্টুরিস্ট পুলিশ বা বিজিবির সহায়তা নিন।ঝামেলায় পড়লে জরুরি নাম্বার ৯৯৯ এ কল করুন।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন না !

কোন অবস্থাতে দালালের সরনাপন্ন হবেন না।সাঁতার না জানলে পানিতে নামবেন না।কোন অনৈতিক-অসামাজিক কাজ করবেন না।পলিথন, প্লাস্টিকের বোতল চিপ্স এর খালি পেকেট যেখানে সেখানে ফেলবেন না। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ করবেন না।

—- আপনার ভ্রমন হোক আনন্দময়। —-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *