Vromon Blog

Tour Site

হাসন রাজার বাড়ি’ সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান। সুনামগঞ্জ শহরের তেঘরিয়া সাহেববাজার ঘাটের পার্শ্বে  সুরমা নদীর কূল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে হাসন রাজার স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যবাহী ‘হাসন রাজার বাড়ি’। ১৮৫৪ সালে তিনি এখানেই জন্মগ্রহণ করেন। মরমী কবি হাসন রাজা ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত জমিদার। তাঁর রচিত অসংখ্য গান আজ অবধি লোকজনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে। ’হাসন ফকিরের মেলা’ নামে একটি মেলা আয়োজন করা হয়েছিল ১৯৬২ সালে এই বাড়িতে। তখন থেকেই তার বাড়িটি মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। তার এই স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি হাসন রাজার জাদুঘর হিসেবে পরিচিতি। হাসন রাজার জাদুঘর রয়েছে বেশ কয়েকটি ছবি। এর মধ্যে ১৯৬২ সালে কলকাতার একটি স্টুডিও থেকে সংগ্রহ করা হয় তার একমাত্র আলোকচিত্র। হাসন রাজার জাদুঘরটি তার ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্রে জীবন্ত হয়ে আছে। তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র গুলির মধ্যে রয়েছে জমিদারির কাজে ব্যবহৃত ক্যাশবাক্স, চেয়ার-টেবিল, রঙিন আলখাল্লা, পানি পরিশোধন পাত্র, তলোয়ার, মাটির হাড়ি, দুধ খাবার পাত্র, বাটি, পানদানি, কাঠের খড়ম, লাঠি, পিতলের কলস, নিজের হাতে লেখা গানের কপি ইত্যাদি। ধারণা করা হয় কোন রাজা বা ইংরেজ তার সাথে দেখা করতে এলে রঙিন আলখাল্লা টি পড়তেন। আর তলোয়ারটি তার বংশানুক্রমে পাওয়া। পানি পরিশোধন পাত্রটি ’উইলিয়াম লিটল’ নামে এক ইংরেজ নায়েবের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন তিনি। জনশ্রুতি আছে, হাসন রাজা মাটির হাড়িতে পয়সা ভরে শিশুদের মধ্যে তা ছিটিয়ে দিতেন। জাদুঘরের তার ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র ঢোল,করতাল, মন্দিরা রয়েছে।

কিভাবে যাবেন:

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে সুনামগঞ্জে যেতে হবে। ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জের দূরত্ব ২৯৬ কিলোমিটার। ঢাকার সায়দাবাদ থেকে শ্যামলী, এনা, মামুন, নূর, একতা, সাউদিয়া, নিউলাইন, মিতালী প্রভৃতি পরিবহনের বাস সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এসি ও নন-এসি বাসের ভাড়া ৫৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত।

রেলপথের সরাসরি সুনামগঞ্জে যাওয়া যায় না। তাই ঢাকা থেকে সিলেটগামী ট্রেনে করে সিলেটে যেতে হবে। অতঃপর  বাসে করে সুনামগঞ্জে আসতে হবে। উপবন, উদয়ন, পাহাড়িকা, জয়ন্তিকা প্রভৃতি ট্রেনে করে সিলেট যাওয়া যায়। ভাড়া শ্রেণীভেদে ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। আবার আকাশ পথে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে পারবেন। বাংলাদেশ বিমান, জেট এয়ার, নোভা এয়ার, রিজেন্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়ার সহ বিভিন্ন বিমান সংস্থার বিমান ঢাকা থেকে সিলেটে প্রতিনিয়ত চলাচল করে। ভাড়া ৩০০০ থেকে ৪০০০ টাকা। এরপর সিলেট থেকে বাসে করে সুনামগঞ্জে যেতে হবে। সুনামগঞ্জে এসে অটোরিকশা, সিএনজিতে করে অতি সহজেই হাসন রাজার জাদুঘরে যাওয়া যায়।

কিভাবে কম খরচে যাবেন:

ঢাকা থেকে নন-এসি বাসে সরাসরি সুনামগঞ্জে গেলে ভাড়া কম লাগে। এক্ষেত্রে ভাড়া ৫৫০ টাকা। সেখান থেকে রিকশায় হাসন রাজার জাদুঘরে যাবেন ভাড়া ২০ টাকা।

কিভাবে বিলাসবহুল ভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে এসি বাসে করে সুনামগঞ্জে যেতে পারেন। ভাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। যদি আকাশ পথে যেতে চান তাহলে ঢাকা থেকে সিলেটে যেতে হবে। সেখান থেকে বাসে অথবা প্রাইভেটকারে সুনামগঞ্জে যেতে হবে। বাস থেকে নেমে সিএনজি রিজার্ভ করে হাসন রাজার জাদুঘরে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন:

সুনামগঞ্জে থাকার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের ভিআইপি ও মোটামুটি মানের হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। সেখানে ৪০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিভিন্ন মানের রুম পাওয়া যায়। এসব হোটেলের মধ্যে রয়েছে-

১। হোটেল নূরানী

ঠিকানা: পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন রোড, সুনামগঞ্জ।

ফোন: ০৮৭১৫৫৩৪৬, ০১৯১৬-১৪২৯৩৯

২। হোটেল নূর

ঠিকানা: পূর্ব বাজার, স্টেশন রোড, সুনামগঞ্জ।

ফোন: ০৮৭১৫৫২২৫, ০১৭১৮৬৩০৮৮৭

৩। হোটেল মিজান

ঠিকানা: পূর্ব বাজার, স্টেশন রোড, সুনামগঞ্জ ।

ফোন: ০৮৭১৫৫৬৪০

৪। হোটেল সারপিনিয়া

ঠিকানা: জগন্নাথ বাড়ি রোড, সুনামগঞ্জ

ফোন: ০৮৭১৫৫২৭৮

৫। সুরমা ভ্যালি আবাসিক রিসোর্ট

ঠিকানা: ১৪ তূসন, সুলোঘর, সুনামগঞ্জ।

ফোন: ০০৮৮২৮৯১৩৯৫৬, ০১৭১১-৪৩৮৮০৩

কিভাবে কম খরচে থাকবেন:

কম খরচে থাকতে চাইলে হোটেল নূর, হোটেল মিজান, হোটেল সারপিনিয়া, হোটেল নূরানী প্রভৃতি হোটেলগুলোতে থাকতে পারেন। ভাড়া ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা।

কিভাবে বিলাসবহুল ভাবে থাকবেন:

সুনামগঞ্জে উন্নত মানের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট আছে। সুরমা ভ্যালি আবাসিক রিসোর্ট এদের মধ্যে অন্যতম। এতে ভাড়া লাগে ১৫০০ টাকা।

কোথায় খাবেন:

হাসন রাজার বাড়ির আশেপাশে কিছু খাবারের হোটেল রয়েছে। নিজের চাহিদা মতো খাবার পাবেন। এদের মধ্যে পাঁচ ভাই হোটেল, জনতা হোটেল, হোটেল রাজ উল্লেখযোগ্য।

কিভাবে কম খরচে খাবেন:

মাঝারি মানের খাবারের হোটেল গুলোর মধ্যে জনতা হোটেল, পাঁচ ভাই হোটেল জনপ্রিয়। এখানে অল্প দামে খাবার পাওয়া যায়।

কিভাবে বিলাসবহুল ভাবে খাবেন:

ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্ট, রূপসী বাংলা রেস্টুরেন্ট, রুবিতা সুইটমিট এন্ড রেস্টুরেন্ট, সোনারগাঁ রেস্টুরেন্ট, নিউ গ্রামীন রেস্টুরেন্ট প্রভৃতি রেস্টুরেন্টগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করে। তাই এইসব হোটেলগুলোতে চাহিদামত খেতে পারেন।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন !

যানবাহন ও হোটেল ভাড়া করার সময় যাচাই-বাছাই করে নিবেন। সুনামগঞ্জের হাওর এলাকা ঘুরতে পারেন। সুরমা নদীতে নৌকা ভ্রমণ করতে পারেন। জরুরী প্রয়োজনে ৯৯ কল করবেন।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন না !

হাসন রাজার জাদুঘরের কোন জিনিস নষ্ট করবেন না। অপরিচিত কারও দেওয়া জিনিস খাবেন না। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না।

—- আপনার ভ্রমন হোক আনন্দময়। —-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *