Vromon Blog

Tour Site

যারা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতিপ্রেমী তাদের জন্য সাফারি পার্ক আদর্শ স্থান । বাংলাদেশের সাফারি পার্ক গুলোর মধ্যে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক অন্যতম । ডুলাহাজারা সাফারি পার্কটি বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানায় অবস্থিত কক্সবাজার জেলা সদর থেকে ৪৮ কিলোমিটার উত্তরে এবং চকরিয়া থানা থেকে  ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত । সাফারি পার্ক মানেই বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম। সাফারি পার্ক চিড়িয়াখানা থেকে ভিন্ন কেননা চিড়িয়াখানায় মানুষ থাকে খোলা অবস্থায় আর প্রাণীরা থাকে খাঁচায় বন্দী, কিন্তু সাফারি পার্কে মানুষ থাকে সুরক্ষিত গাড়িতে বন্দি আর বন্যপ্রাণীরা থাকে খোলা অবস্থায়। ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্ক নামেও পরিচিত। জীবজন্তুর সমাহারে পরিপূর্ণ এই সাফারি পার্কে প্রতিবছর প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করতে আসে। ডুলাহাজারা সাফারি পার্কটি ৯০০ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। পার্কের বেশিরভাগ অংশ কৃত্তিম অবকাঠামোতে তৈরি বলে কেউ কেউ একে সাফারি পার্ক বলে সম্মতি করে না। মূলত হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখানে সিংহ, বাঘ, হাতি, ভাল্লুক, বিভিন্ন প্রকারের হরিণ, জলহস্তী ইত্যাদি প্রাণীও রয়েছে।। নানান প্রজাতির বড় বড় বৃক্ষ, মূল্যবান গাছ গাছালি আর দুর্লভ ও ঔষধি লতা পাতার গুল্ম  রয়েছে এই পার্কে। এখানে স্থাপিত একাধিক পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের  মাধ্যমে নয়নাভিরাম সৌন্দর্য ও পশু পাখিদের নিরাপদভাবে  পর্যবেক্ষণ করা যায়। এখানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে বিশ্রামাগার ও ডরমেটরি। এছাড়াও এখানে ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম ও বাংলাদেশের সর্বপ্রথম প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। পুরো সাফারি পার্ক জুড়েই পশুপাখিদের আদলে তৈরি কংক্রিটের মূর্তি রয়েছে। ডুলাহাজারা সাফারী পার্ক দিন দিন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। পর্যটন মৌসুমে সারা বাংলাদেশে হতে পার্কের বিভিন্ন অংশে পিকনিকের আয়োজন করে থাকে। পার্কে প্রবেশ করে বাম দিকে গেলে দেখা যায় ডিসপ্লে ম্যাপ। পার্কের ভিতর হ্রদের পানিতে জলহস্তির মুখ উঁচিয়ে ভয় দেখানো  এবং বাঘের হুংকার এ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।

প্রবেশমূল্য:

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রবেশ মূল্য সময়ভেদে ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে কিভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী বাসে করে সরাসরি ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের সামনে নামতে পারবেন। ঢাকা থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, এস আলম, সৌদিয়া, গ্রীন লাইন, সোহাগ পরিবহনের  বাস কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এসি নন এসি বাসের ভাড়া ৬০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে। আর ট্রেনে যেতে চাইলে প্রথমে চট্টগ্রামে পরে বাসে অথবা প্রাইভেট কারে করে কক্সবাজারে যেতে হবে। ঢাকা থেকে সোনার বাংলা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, তূর্ণা নিশিতা, মহানগর গোধুলী প্রভৃতি ট্রেনে করে চট্টগ্রামে যেতে পারবেন। শ্রেণীভেদে এসব ট্রেনের ভাড়া ৩৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়াও আকাশপথে সরাসরি  কক্সবাজার যেতে পারেন।

কি ভাবে কম খরচে যাবেন:

সবচেয়ে কম খরচে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে নন-এসি বাসে করে সরাসরি সাফারি পার্কে যেতে পারেন। ভাড়া ৬০০ টাকা। আর ট্রেনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যেতে পারেন ভাড়া ৩৫০ টাকা  চট্টগ্রাম থেকে সাফারি পার্কে বাসে করে যেতে পারেন। ভাড়া ৫০ টাকা ।

কি ভাবে বিলাসবহুল ভাবে যাবেন:

বিলাসবহুল ভাবে যেতে চাইলে এসি বাস গুলোতে করে ঢাকা থেকে সরাসরি ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে যেতে পারেন। ভাড়া ২০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ট্রেনের উন্নত কামরায় ভাড়া  ২০০০-৩০০০ টাকা। আকাশপথে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ, বিমান বাংলাদেশ, ইউএস-বাংলা, নভো এয়ার প্রভৃতি প্লেনে করে  কক্সবাজার যেতে হবে। ভাড়া ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। পর্যন্ত। বিমানবন্দরে নেমে প্রাইভেটকার অথবা ট্যাক্সি যোগে সাফারি পার্কে যেতে পারেন ।

কোথায় থাকবেন:

সাফারি পার্ক এর আশেপাশে অসংখ্য হোটেল রয়েছে আর কক্সবাজার তো হোটেলের শহর। আপনার চাহিদামত সব ধরনের হোটেল এখানে পাবেন। এক রাতের জন্য এসব হোটেলের ভাড়া ৫০০ থেকে ৬০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

কি ভাবে কম খরচে থাকবেন:

চকরিয়া বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় কম খরচে অনেক আবাসিক হোটেল হোটেলে রাত্রি যাপন করতে পারবেন। এতে এক রাতের জন্য খরচ ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়াও কক্সবাজারের নিম্ন ও মাঝারি মানের হোটেল গুলো বেছে নিতে পারেন। নিচে কতগুলো হোটেলের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হল:

মোটেল প্রবাল,ভাড়া হতে পারে ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা যোগাযোগ করতে পারেন ০৩৪১৬৩২১১।
হোটেল উপল, ভাড়া হতে পারে ১,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকা যোগাযোগ করতে পারেন ০৩৪১৬৪২৫৮।
হোটেল সী কক্স, ভাড়া হতে পারে ৩,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮৪৩৬৩১০৭৭।
হোটেল হায়পারিয়ন সী ওয়াল্ড, ভাড়া হতে পারে ৪,০০০ থেকে ৫,৫০০ টাকা যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮১৯৩৩৫৩১৩।

কি ভাবে বিলাসবহুল ভাবে থাকবেন:

কক্সবাজারে উন্নতমানের অনেক হোটেল ও রিসোর্ট আছে। এসব হোটেলে এক রাতের জন্য ৬০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া হয়ে থাকে। বিশ্বমানের এসব ফাইভ স্টার, ফোর স্টার, থ্রি স্টার হোটেল গুলোতে পাবেন আধুনিক সেবা ও নিরাপত্তা। বিলাসবহুল হোটেল গুলোর মধ্যে রয়েছে-

ওসান প্যারাডাইস হোটেল এন্ড রিসোর্ট ভাড়া হতে পারে ৮,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০১৯৩৮৮৪৬৭৬১।
রয়াল টিউলিপ সী পার্ল বীচ রিসোর্ট এন্ড স্পা ভাড়া হতে পারে ১০,০০০ থেকে ১,২০০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮৪৪০১৬০০১।
সায়মন বীচ রিসোর্ট ভাড়া হতে পারে ১,০০০০ থেকে ৫,০০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০৯৬১০৭৭৭৮৮৮।
লং বীচ হোটেল ভাড়া হতে পারে ৮,০০০ থেকে ৫,০০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭৫৫৬৬০৫১।
সীগ্যাল হোটেল ভাড়া হতে পারে ৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০৩৪১৬২৪৮০।
হোটেল সী ক্রাউন ভাড়া হতে পারে ৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন ০১৫৫০৬৮৯৫১।
হোটেল দ্যা কক্স টুডে ভাড়া হতে পারে ৮,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা।যোগাযোগ করতে পারেন০১৭৫৫৫৯৮৪৫০।

কী খাবেন:

পার্কের ভিতরে একটি ক্যান্টিন আছে এবং পার্কের আশেপাশের অসংখ্য রেস্টুরেন্ট আছে। কক্সবাজারে ছোট, মাঝারি, উন্নতমানের রেস্টুরেন্ট আছে।

কি ভাবে কম খরচে খাবেন :

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভিতরে ক্যান্টিনে খেতে পারেন। কম খরচে  সাফারি পার্কের বাহিরের রেস্টুরেন্টেও খেতে পারবেন। মাঝারি মানের বাজেট রেস্টুরেন্টে কম খরচে ভালো মানের খাবার পরিবেশন করে  এমন হোটেলগুলো মধ্যে নিরিবিলি, ঝাউবন, রোদেলা, ধানসিঁড়ি ইত্যাদি।

কি ভাবে বিলাসবহুল ভাবে খাবেন :

বিলাসবহুল ভাবে খেতে চাইলে বিভিন্ন উন্নত মানের রেস্টুরেন্টে বেছে নিতে পারেন। কেএফসি এদের মধ্যে অন্যতম। তাছাড়া হোটেল কর্তৃপক্ষও বুফে সিস্টেমে  উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করে। হান্ডি রেস্তোরা থেকে হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানিও খেতে পারেন ।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন !

পার্কে কিছু কিছু জীবজন্তু খোলা অবস্থায় থাকে সুতরাং সব দিক থেকে সতর্ক থাকবেন। হিংস্র প্রাণীদের থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় থাকবেন। জিনিসপত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে দরদাম করবেন। বাস ভাড়া করার ক্ষেত্রে যাচাই করে নিবেন। মোবাইল ও ক্যামেরার জন্য অতিরিক্ত ব্যাটারি সাথে রাখবেন। ঝামেলায় পড়লে জরুরি নাম্বার ৯৯৯ এ কল করুন।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন না !

পার্কে খোলামেলা অবস্থায় ঘুরাফেরা করবেন না। কোন অবস্থাতে দালালের সরনাপন্ন হবেন না। পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল চিপ্স এর খালি পেকেট যেখানে সেখানে ফেলবেন না। বন্য প্রাণীর ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ করবেন না।

—- আপনার ভ্রমন হোক আনন্দময়। —-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *