Vromon Blog

Tour Site

বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার ‘শুভলং ঝর্ণা’ আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান। পাহাড়ি ঝর্ণা কার না ভালো লাগে। রাঙ্গামাটির পাহাড়ি ঝর্ণার কথা বলতেই উঠে আসে শুভলং ঝর্ণার কথা। অপরূপ সৌন্দর্যের এই ঝর্ণাটি রাঙ্গামাটি সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বর্ষার মৌসুমে শুভলং ঝর্ণার  জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট ওপর থেকে আছড়ে পড়ে। আর এই জলধারা মিশে গেছে কাপ্তাই লেকে। কাপ্তাই লেক দিয়ে এই ঝর্ণায় যাওয়ার সময় চারপাশের সৌন্দর্য আপনাকে আবেগময় করে তুলতে পারে। শুভলং ঝর্ণায়  যেতে নৌপথ ছাড়া অন্য কোন পথ নেই। পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা কাপ্তাই লেক ভ্রমণ আপনাকে এখানে বারবার আসতে আকৃষ্ট করবে। ধর্নার কাছে আসতেই এর কলকল শব্দ শোনা যায়। ঝর্ণার পানিতে গা ভিজিয়ে নেওয়া এ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। ঝর্ণা  ও এর আশেপাশের পরিবেশ আপনার মনে প্রশান্তি জাগাবে। এ পাহাড়ি ঝর্ণার শীতল ও চঞ্চল জলধারা সকল পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। ঝরনার পথে যাওয়ার সময় দেখা মিলে উঁচু-নিচু অসংখ্য পাহাড়, এ যেন শৈল্পিক আঁকা দৃশ্য। যেদিকে চোখ যায় স্বচ্ছ পানি আর বিস্তীর্ণ সবুজের হাতছানি। পাহাড়ের বুকে শুভলংয়ের ঝর্ণা দেখে মনে হবে কোন এক শিল্পী তার রং তুলিতে এঁকেছেন।

কি ভাবে যাবেন:

বাসে গেলে প্রথমে যেতে হবে রাঙ্গামাটিতে। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়দাবাদে রাঙ্গামাটিগামী সোহাগ, সৌদিয়া, শ্যামলী, হানিফ, ঈগল ইত্যাদি পরিবহনের বাস সরাসরি রাঙ্গামাটি যায়। এসি ও নন এসি বাসের ভাড়া ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা। রেলপথে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যেতে পারবেন। সেখান থেকে রাঙ্গামাটিতে বাসে যেতে হবে। ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে চট্টগ্রামে প্রভাতী, মহানগর গোধুলী, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, তূর্ণা নিশিতা প্রভৃতি ট্রেনে করে যেতে পারবেন।  শ্রেণীভেদে এসব ট্রেনের ভাড়া ৩৫০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। আবার আকাশপথে বাংলাদেশ বিমান, ইউনাইটেড এয়ার, নভোএয়ার, রিজেন্ট এয়ারে করে সরাসরি চট্টগ্রামে যেতে পারবেন। চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় থেকে রাঙ্গামাটি যাওয়ার বাস পাওয়া যায় ভাড়া ১৫০ টাকা। রাঙ্গামাটি থেকে শুভলং ঝর্ণায় যেতে হলে নৌপথে যেতে হবে। রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার থেকে ট্রলার রিজার্ভ করা যায়। আকার অনুযায়ী এসব ট্রলারের ভাড়া সাধারণত ১২০০ থেকে ৩০০০ টাকা। শুভলং ঝর্ণায় যেতে সময় লাগে ১ ঘন্টা।

কি ভাবে কম খরচে যাবেন :

ঢাকা থেকে রাঙামাটিতে নন এসি বাসে করে সরাসরি যাবেন। ভাড়া ৬০০ টাকা। এরপর রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার থেকে ছোট নৌকায রিজার্ভ করতে পারেন। একসাথে অনেকে গেলে খরচ কম হয়। ভাড়া ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা।

কি ভাবে বিলাসবহুল ভাবে যাবেন :

ঢাকা থেকে এসি বাসে সরাসরি রাঙ্গামাটি যেতে পারেন। ভাড়া ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। অথবা আকাশ পথে প্রথমে চট্টগ্রাম যাবেন। বিমান ভাড়া ৩০০০-১১০০০ টাকা । চট্টগ্রাম থেকে গেটলক বাসে রাঙ্গামাটি যাবেন। রিজার্ভ বাজার হতে ট্রলার রিজার্ভ করে শুভলং ঝর্ণা যাবেন। ভাড়া ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন:

শুভলং ঝর্ণা দুর্গম এলাকায় হওয়ায় থাকার জন্য ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই আপনাকে দিনে গিয়ে দিনে ফিরতে হবে। রাঙ্গামাটিতে বিভিন্ন মানের গেস্ট হাউস, হোটেল, মোটেল ও বোর্ডিং রয়েছে। নিচে উল্লেখযোগ্য কিছু আবাসিক হোটেলের নাম ও ঠিকানা দেওয়া হলো:

১। হোটেল সুফিয়া

ঠিকানা: ফিশারীঘাট, কাঠালতলী

ভাড়া: এসি সিঙ্গেল ৯০০ এবং ডাবল ১২৫০ টাকা, নন-এসি ৬০০ টাকা।

ফোন: ০৩৫১-৬২১৪৫, ০১৫৫৩-৪০৯১৪৯

২।  হোটেল গ্রীন ক্যাসেল

ঠিকানা: রিজার্ভ বাজার

ভাড়া: এসি ১৬০০-২০০০ টাকা, নন-এসি ৯০০-১২০০ টাকা ।

ফোন: ০১৭২৬-৫১১৫৩২, ০৩৫১-৭১২১৪

৩। হোটেল আল-মোবা

ঠিকানা: নতুন বাজার স্টেশন, রিজার্ভ বাজার

ভাড়া: ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা।

ফোন: ০১৮১১-৯১১১৫৮

৪। পর্যটন মোটেল

ঠিকানা: রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজের পাশে

ভাড়া: এসি ১৫০০-১৮০০ টাকা, নন-এসি ১০০০-১২০০ টাকা

ফোন: ০৩৫১-৬৩১২৬

৫। পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স

ঠিকানা: ডিয়ার পার্ক, রাঙ্গামাটি

ভাড়া: এসি ১৭২৫ টাকা, নন-এসি ৮০৫ টাকা।

ফোন: ০৩৫১-৬৩১২৬

কি ভাবে কম খরচে থাকবেন :

কম খরচে থাকতে চাইলে উপরোক্ত হোটেলগুলোতে নন-এসি রুম গুলো ভাড়া করতে পারেন। এছাড়াও রিজার্ভ বাজার এলাকার আশেপাশে বিভিন্ন বোর্ডিং গুলোতে থাকতে পারেন। বোর্ডিং গুলোতে খরচ কম হয়।

কি ভাবে বিলাসবহুল ভাবে থাকবেন :

পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স, হোটেল গ্রীন ক্যাসেল, হোটেল সুফিয়া ইত্যাদি হোটেলগুলোতে এসি রুম ভাড়া করতে পারেন আরামদায়ক ভাবে থাকতে চাইলে। এসকল হোটেলগুলোতে এসি রুমের ভাড়া ১২০০-১৭০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

কি খাবেন:

শুভলং এলাকায় খাবার ব্যবস্থা নেই। তাই আপনাকে রাঙ্গামাটিতে অথবা কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন স্থানে খেতে হবে। রাঙ্গামাটি শহরের কলেজ গেইট এলাকা থেকে শুরু করে জিরো পয়েন্ট ও বিভিন্ন পর্যটন স্পটে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন খাবারের দোকান। পর্যটন স্পটগুলোতে উপজাতিদের অন্যতম খাবার চিকেন গুদাইয়া খেতে পারেন।

কি ভাবে কম খরচে খাবেন :

কম মূল্যে তৃপ্তি নিয়ে খাওয়া-দাওয়া করা যাবে বনরুপা ও রিজার্ভ বাজার এলাকায়।

কি ভাবে বিলাসবহুল ভাবে খাবেন :

বিলাসবহুল ভাবে খেতে চাইলেন নামকরা রেস্তোরাঁয় খেতে পারেন। অথবা কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্নস্থানে যেমন- চাং পাং, পেদা টিং টিং, মেজাং, গরবা রেস্টুরেন্টে খেতে পারেন।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন !

শুভলং ঝর্ণা পূর্ণরূপ দেখতে হলে বর্ষাকাল বা তার  পরের সময়ে যাবেন। দলগত ভাবে যাবেন তাতে  খরচ কম হবে। ট্রলার রিজার্ভ করার সময় ঠিকমতো দরদাম করে নিবেন। কাপ্তাই লেকের কাছাকাছি হোটেল গুলোতে ভাড়া করতে পারেন। সাঁতার না জানলে লাইফ জ্যাকেট সাথে রাখবেন। মোবাইল বা ক্যামেরার স্পেয়ার ব্যাটারি ও চার্জর রাখুন । মিনি মাল্টিপ্লাগ রাখতে ভুলবেন না । ঝামেলায় পড়লে জরুরি নাম্বার 999 এ কল করুন।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন না !

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ করবেন না। অপরিচিত কোন মানুষের দেওয়া কোন জিনিস খাবেন না। সাঁতার না জানলে পানিতে নামবেন না। পলিথন, প্লাস্টিকের বোতল চিপ্স এর খালি পেকেট যেখানে সেখানে ফেলবেন না।

—- আপনার ভ্রমন হোক আনন্দময়। —-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *