Vromon Blog

Tour Site

শিল্প সংস্কৃতি ও সাহিত্যে বাংলাদেশের এক গৌরবময় জনপদের নাম সোনারগাঁও। সোনারগাঁও বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় অবস্থিত। সোনারগাঁও একটি ঐতিহাসিক প্রাচীন শহর। একসময় সোনারগাঁও ছিল বাংলার রাজধানী। এর প্রাচীন ইতিহাস খুবই সমৃদ্ধ। আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর এক অনন্য নিদর্শন সোনারগাঁও। ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী ছিল এটি। পরবর্তীতে মুসলিম শাসকদের অধীনে পূর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। ধারণা করা হয় প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব। আবার কারো কারো মতে বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁর স্ত্রী সোনা বিবির নাম অনুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়। মধ্যযুগীয় নগরটির যথার্থ অবস্থান নির্দেশ করা কঠিন। তবে এটি  পূর্বে মেঘনা নদী, পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা নদী, উত্তরে ব্রহ্মপুত্র নদী ও দক্ষিণে ধলেশ্বরী নদী জুড়ে বিস্তৃত ছিল। আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়। ঈশা খাঁ ও তার বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ব বঙ্গের রাজধানী। তখন এর নাম পানাম নগরী হিসেবে পরিচিত ছিল। ঊনিশ শতকে সোনারগাঁওয়ের উচ্চবিত্ত ব্যবসায়ীদের বাসস্থান ছিল এটি। এখানকার ভবনগুলো ছোট ছোট লাল ইট দ্বারা তৈরি। অধিকাংশ ভবন আয়তাকার। রাস্তার উভয় পাশে ৫২ টি পুরনো ভবন এর মূল আকর্ষণ। এখানে একটি জাদুঘর, একটি সেমিনার কক্ষ ও কারুশিল্প গ্রাম রয়েছে। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। জাদুঘর রয়েছে বেশকিছু গ্যালারি, লাইব্রেরী, লোকমঞ্চ ডকুমেন্টেশন সেন্টার। জাদুঘরে প্রায় সাড়ে চার হাজার নিদর্শন সংরক্ষিত আছে। জাদুঘরটি প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে। জাদুঘরের কাছেই রয়েছে আগ্রার তাজমহল এর আদলে তৈরি বাংলার তাজমহল।সোনারগাঁও পর্যটকদের ইতিহাসকে স্বচক্ষে অবলোকন করার শিক্ষা দেয়। শত শত বছরের শিল্প ও সংস্কৃতির নিদর্শন দেখা শত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।

টিকেট মূল্য

জাদুঘরের প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা।

পানাম নগরীতে প্রবেশ মূল্য ১৫ টাকা।

বাংলার তাজমহল এর প্রবেশ মূল্য ১৫০ টাকা ।

কি ভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে সোনারগাঁও এর দূরত্ব ২৭ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে সোনারগাঁও-এ যাওয়ার এসি ও নন-এসি উভয় ধরনের বাস রয়েছে। ঢাকার গুলিস্তান বাস স্ট্যান্ড থেকে সোনারগাঁও মুগাড়াপাড়া চৌরাস্তায় যাবার বাস পাবেন। এসি বাসের  মধ্যে বোরাক অন্যতম। এসি বাসের জনপ্রতি ভাড়া ৫৫ টাকা। নন-এসি বাস গুলোর মধ্যে স্বদেশ ও দোয়েল অন্যতম। এ সকল বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৪০ টাকা। এরপর মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা নেমে রিকশা বা অটো নিতে হবে। রিকশায় করে সোনারগাঁও এর বিভিন্ন স্পটগুলোতে নিজেদের ইচ্ছামত যেতে পারবেন।

কি ভাবে কম খরচে যাবেন :

ঢাকার গুলিস্তান বাস স্ট্যান্ড থেকে স্বদেশ অথবা দুয়েল পরিবহনের বাসে করে সোনারগাঁওয়ের মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা যাবেন। সেখান থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় জাদুঘরসহ পানাম নগরী ও তাজমহলে যেতে পারবেন।

কি ভাবে বিলাসবহুল ভাবে যাবেন :

বিলাসবহুল ভাবে যেতে চাইলে প্রাইভেটকার অথবা ট্যাক্সি ভাড়া করতে পারেন। বাসে বোরাক পরিবহনের এসি বাসে করে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা যেতে পারেন। সেখান থেকে রিকশা বা সিএনজি রিজার্ভ করে সোনারগাঁও যেতে পারেন। আবার ঢাকা থেকে সোনারগাঁও কাছে হওয়ায় সিএনজি রিজার্ভ করেও সরাসরি সোনারগাঁও যেতে পারেন।

কোথায় থাকবেন:

সোনারগাঁও ঢাকার খুব কাছেই হওয়ায় আপনি দিনে যেয়ে দিনেই ফিরতে পারবেন। তবে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলগুলোতে থাকতে পারেন সে ক্ষেত্রে ভাড়া  ৬০০ থেকে ২০০০ টাকা।

কি খাবেন:

সোনারগাঁওয়ে বিভিন্ন স্পটে অসংখ্য খাবারের হোটেল পাবেন। এসব হোটেলে ভাত, মাছ, মাংস,  বিরিয়ানি সহ উন্নত মানের খাবার পাবেন। আপনার রুচি ও বাজেট অনুযায়ী খাবার খেতে পারেন।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন !

যেকোনো দেশের প্রত্নসম্পদ তার দেশের ঐতিহ্য বহন করে সুতরাং এ সম্পর্কে অনেক তথ্য জেনে তারপর যাবেন। খাবার স্যালাইন ও পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি সাথে রাখবেন। বাস ভাড়া, হোটেলে থাকার ক্ষেত্রে দরদাম করে নেবেন। জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নাম্বারে এ কল করুন।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন না !

প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ করবেন না। কোনো বিশৃঙ্খলা জড়াবেন না। যেখানে সেখানে  ময়লা ফেলবেন না।

—- আপনার ভ্রমন হোক আনন্দময়। —-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *