Vromon Blog

Tour Site

বিখ্যাত বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মাজার বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলায় অবস্থিত। ১৮৯০ সালের ১৭ ই অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর পর ছেউড়িয়া নামক স্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। পরবর্তীতে তার শিষ্যরা এখানেই গড়ে তুলে মাজার। এখানকার স্থানীয়রা একে লালনের আখড়া নামে সম্মোহিত করে। লালন শাহের সমাধিকে রয়েছে তার শিষ্যদের সারি সারি কবর। লালন শাহ এই ছেউরিয়াতেই তিনি তাঁর শিষ্যদের নীতি ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা দিতেন। তার মৃত্যুর পর থেকে তাঁর স্মরণে লালন একাডেমি ও জেলা প্রশাসন প্রতি বছর পহেলা কার্তিক এক বিশাল স্মরণোৎসব পালন করে। প্রতিবছর শীতকালের এই সময়টাতে দেশ-বিদেশের বাউল সাধকদের পাশাপাশি প্রচুর পর্যটক সমাগম ঘটে। এ সময়ে সবচেয়ে বড় লালন মেলার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও দোল পূর্ণিমা উৎসবে আরেকটি মেলা এখানে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাতভর বাউল শিল্পীদের গানে মুখরিত থাকে। লালন শাহের মাজার এর পাশে রয়েছে লালন মিউজিয়াম। মিউজিয়ামে লালন শাহের স্মৃতি সম্বলিত বিভিন্ন জিনিসপত্র রয়েছে। রয়েছে বেশ কিছু দুর্লভ ছবি। মিউজিয়ামে প্রবেশ মূল্য দুই টাকা।

কি ভাবে যাবেন:

বাসে ও ট্রেনে কুষ্টিয়া যাওয়া যায়। ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে শ্যামলী, সোহাগ, হানিফ, এসবি, খালেক পরিবহনের বাস সরাসরি কুষ্টিয়ায় যায়। এসি ও নন-এসি উভয় ধরনের বাস চলাচল করে। কুষ্টিয়ায় বাস থেকে নেমে রিকশা বা অটোরিকশা নিয়ে লালন শাহের মাজারে যেতে পারবেন। আবার ট্রেনে কুষ্টিয়া যেতে পারবেন সুন্দরবন এক্সপ্রেস চিত্রা ও এক্সপ্রেস ট্রেন দিয়ে। কুষ্টিয়ার পোড়াদহ অথবা ভেড়ামারা স্টেশনে নেমে বাস অথবা সিএনজিতে করে কুষ্টিয়া শহরে যেতে হবে। সেখান থেকে রিক্সা করে লালন শাহের মাজার  যেতে হবে।

কি ভাবে কম খরচে যাবেন :

ঢাকা থেকে নন-এসি বাসে করে কুষ্টিয়া যেতে পারেন। নন-এসি বাস ভাড়া ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। বাস থেকে নেমে রিকশায় মাজারে যেতে পারবেন। রিক্সা ভাড়া ২০ থেকে ৩০ টাকা।

কি ভাবে বিলাসবহুল ভাবে যাবেন :

আরামদায়কভাবে ভ্রমন করতে চাইলে এসি বাস বেছে নিতে পারেন। ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ায় এসি বাসের ভাড়া ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। বাস থেকে নেমে অটোরিকশায় বাজারে যেতে পারেন।

কোথায় থাকবেন:

কুষ্টিয়া শহরে বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। এদের মধ্যে হোটেল নূর ইন্টারন্যাশনা,ল আজমিরী রেসিডেন্সিয়াল হোটেল, হোটেল রিভারভিউ, গোল্ড স্টার, সানমুন অন্যতম।

কি ভাবে কম খরচে থাকবেন :

কম খরচে থাকতে চাইলে মজমপুর ও এন এস রোডের হোটেল গুলিতে থাকতে পারেন।

কি ভাবে বিলাসবহুল ভাবে থাকবেন :

একটু বিলাসবহুল ভাবে থাকতে চাইলে হোটেল নূর ইন্টার্নেশনাল, হোটেল রিভারভিউ, আজমেরী রেসিডেন্সিয়াল হোটেল প্রভৃতি হোটেলগুলোতে থাকতে পারেন।

কি খাবেন:

কুষ্টিয়াতে বেশকিছু ভালো মানের খাবার হোটেল রয়েছে। এদের মধ্যে হোটেল শফি, শিল্পী হোটেল, জাহাঙ্গীর হোটেল, হোটেল খাওয়া-দাওয়া, মৌবন রেস্টুরেন্ট অন্যতম। কুষ্টিয়ার বিখ্যাত তিলের খাজা ও কুলফি আইসক্রিম খেতে ভুলবেন না।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন !

যানবাহন ভাড়া করার সময় ভালোমতো দামাদামি করুন। প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র সাথে রাখুন যেমন- খাবার স্যালাইন, ট্র্যাকিং জুতা, হাল্কা ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবার। জরুরী প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে ডায়াল করুন।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন না !

বিভিন্ন প্লাস্টিক প্যাকেট যেখানে-সেখানে ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না। প্রয়োজন হলে ডাস্টবিন ব্যবহার করুন। কারো সাথে বিতর্কে জড়াবেন না। অপরিচিত কারো কিছু দেওয়া জিনিস খাবেন না।

—- আপনার ভ্রমন হোক আনন্দময়। —-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *