Vromon Blog

Tour Site

বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক বাংলাদেশের একটি অন্যতম পর্যটন আকর্ষন। বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কটি থাইল্যান্ডের সাফারী ওয়ার্ল্ড ও ইন্দোনেশিয়ার বালি সাফারী পার্কের আদলে নির্মিত।সাফারী পার্ক চিড়িয়াখনার চেয়ে একটু আলাদা চিড়িয়া্রকনায় সাধারনত জীবজন্তু গুলো খাচায় বন্দি থাকে আর মানুষেরা থাকে উন্মুক্ত,আর সাফারী পার্কে মানুষেরা থাকে খাচার মত সুরক্ষিত গাড়িতে  আর জীবজন্তু গুলো থাকে উন্মুক্ত।

সুরক্ষিত মিনি বাসে চড়ে খোলামেলা বিচরণরত বাঘ,ভাল্লুক,হাতি,সিংহ,হরিণ,বানর, হনুমান, গয়াল,কুমির, ও রং বেরংয়ের নানা প্রাজাতির পাখি দেখতে পারেন ।আপনার ভাগ্য ভাল থাকলে হঠাৎ জীবজন্তু এসে হানা দিতে পারে আপনার গাড়িতে এ এক অন্যরকম অনুভূতি।

ওয়াচ টাওয়ারে উঠে পার্কের দৃষ্টিন্দন সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন খুব সহজে।জলজ পাখিদের কলকাকলিতে ভরপুর পার্কের লেকগুলো, শীতে অতিথি পাখিদের অভয়ারণ্য।তথ্য ও শিক্ষা কেন্দ্র, ভিডিও ব্রিফিং, এর মাধ্যমে সাফারী পার্ক সম্পর্কে অনেক কিছু জেনে নিতে পারেন।এ ছাড়া ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকগন ন্যাচারেল হিস্ট্রি মিউজিয়াম থেকে বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজাতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।

গাজীপুরের বাঘের বাজার থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে পীরুজালী ইউনিয়নে অবস্থিত।  ৩৮১০ একর আয়তন বিশিষ্ট ৫টি অংশে বিভক্ত বঙ্গবন্ধু স্কয়ার,কোর সাফরী পার্ক, বঙ্গবন্ধু স্কয়ার,বায়োডাইভারসিটি,এক্সটেনসিভ এশিয়ান ,সাফারী কিংডম, সাফারী পার্কটি পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষনীয় স্থান।

বঙ্গবন্ধু স্কয়ার-

প্রায় ৩৮ একর জায়গা নিয়ে তৈরি বঙ্গবন্ধু স্কয়ার। রয়েছে আকর্ষণীয় সুসজ্জিত মূল ফটক।এছাড়া রয়েছে ডিসপ্লে ম্যাপ,তথ্যকেন্দ্র,ডরমেটরি,নেচারেল হিস্ট্রি মিউজিয়াম,পার্ক অফিস,বিশ্রামাগার, ও ইকো-রিসোর্ট।

সাফারী কিংডম-

৫৭৫ একর জায়গা নিয়ে তৈরি সাফারী কিংডম।এখানে সাধারনত বণ্য প্রাণীদের ছোট ছোট বেস্টনীতে আবদ্ধ করে রাখা হয়। এখানে পর্যটকগন হেটে হেটে বিভিন্ন প্রানীর নৈপূণ্য ও খেলাধুলা উপভূগ করতে পারেন।দেখতে পারেন প্রকৃতিবীক্ষন কেন্দ্র, জিরাফ ফিডিং স্পট,বোটিং ও লেকজোন,পেলিকেন আয়ল্যান্ড,ক্রাউন ফিজেন্ট এভিয়ারী,পাখিশালা,কুমির পার্ক,অর্কিড হাউজ,প্রজাপতি কর্ণার,শকুন-পেচা কর্ণার,কচ্ছপ-কাছিম ব্রিডিং সেন্টার,ক্যাঙ্গারু বাগান,হাতি শো গ্যালারী,সর্প পার্ক,লিজার্ড পার্ক,ফেন্সিকার্প পার্ক,ফেন্সি ডার্ক পার্ক,মেকাউ ওপেন ল্যান্ড,ফোডকোটর ও লেক।এছাড়া পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠে পার্কের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভূগ করতে পারেন খুব সহজেই।

কোর সাফারী-

কোর সাফরী হচ্ছে সাফারী পার্কের মূল আকর্ষণ ১৩৩৫ একর এলাকা জুড়ে রয়েছে কোর সাফারী।কোর সাফারী অংশে প্রটেকটেড মিনি বাস ছাড়া পর্যটক প্রবেশ সম্পুর্ণ নিষেধ। কোর সাফারী অংশে পর্যটকদের চলাচলের জন্য রয়েছে ২টি জিপ,২টি মিনি বাস।জিপে চড়ে বিচরণরত বাঘ,সিংহ,কালো ভাল্লুক,আফ্রিকান চিতা,সাম্বাব,গয়াল,নীলগাই,বারো সিংগা,জলহস্তি,পাখীদ্বীপ ইত্যাদি অবলোকন করতে পারেন।আর এ জন্য দর্শনার্থীদের গুনতে হবে আলাদা ফী।২০ মিনিট ঘুরে দেখার জন্য প্রাপ্ত বয়স্ক জনপ্রতি ১০০ টাকা ও ১৮ বছরের নিচে হলে ৫০ টাকায় চরতে পারবেন জিপ- মিনি বাস গুলোতে।এছাড়া জনপ্রতি ২০০ টাকায় ৩০ মিনিটের জন্য প্যাডেল বোট ভ্রমণ করতে পারেন আনন্দের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তোলারজন্য।

পার্কের প্রবেশ মূল্য-

বাংলাদেশিদের জন্য টিকেটের মূল্য ৫০ টাকা,তবে ১৮ বছরের ছেলেমেয়েদের টিকেটের মূল্য ২০ টাকা । সাধারণ ছাত্র -ছাত্রী বা শিক্ষা সফরে আসা ছাত্র -ছাত্রী দের টিকেটের মূল্য ১০ টাকা।এছাড়া আগাম অনুমতি নিয়ে শিক্ষা সফরে আসা ৪০ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৪০০ টাকা এবং১০০ এর বেশি হলে ৮০০ টাকা প্রবেশ ফী নিয়ে থাকে। বিদেশী পর্যটকদের জন্য পার্কের প্রবেশ মূল্য ৫ ইউ এস ডলার।

কখন সাফারী পার্ক যাবেন-

বছরের যে কোন সময় সাফারী পার্ক ভ্রমণ করা যায়, তবে নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সাফারী পার্ক ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। গাজীপুর সাফারী পার্কের সাপ্তাহিক ছুটি মঙ্গলবার, এছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত পার্ক খোলা থাকে।

কিভাবে কম খরচে সাফারী পার্ক যাবেন-

ঢাকা থেকে সাফারী পার্কের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার, ঢাকা – ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘের বাজার থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক অবস্থিত।ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ,জামালপুর,শেরপুর,নেত্রকোনাগামী যে কোন বাসে চড়ে বাঘের বাজার এসে নামতে পারেন কম খরচে ভাড়া নিতে পারে ৬০ থেকে ৮০ টাকা।বাঘের বাজার থেকে সিএনজি,বা ইজি বাইকে চড়ে যেতে পারেন সাফারী পার্ক ভাড়া নিতে পারে ২০ থেকে ৩০ টাকা।

ঢাকা বিমান বন্দর থেকে ময়মনসিংহ,জামালপুর,শেরপুর,নেত্রকোনাগামী যে কোন বাসে চড়ে বাঘের বাজার এসে নামতে পারেন, বাঘের বাজার থেকে সিএনজি,বা ইজি বাইকে চড়ে যেতে পারেন সাফারী পার্ক।

মাইক্রোবাস,প্রাইভেটকার রিজার্ভ করেও যেতে পারেন দেশের যে কোন স্থান থেকে।

যে কোন স্টেশন থেকে গাজীপুর রেলস্টেশন আসতে পারেন,স্টেশন থেকে যেতে হবে জয়দেবপুর চৌরাস্তা,চৌরাস্ত থেকে বাস,মিনি বাস, লেগুনা দিয়ে যেতে হবে বাঘের বাজার, বাঘের বাজার থেকে সিএনজি,বা ইজি বাইকে চড়ে যেতে পারেন সাফারী পার্ক গাজীপুর।

গাড়ি পার্কিং ভাড়া-

প্রতি বাস বা ট্রাক পার্কিং খরচ ২০০ টাকা, মাইক্রোবাস/প্রাইভেটকার পার্কিং খরচ ১০০ টাকা,অটোরিক্সা/সিএনজি পার্কিং খরচ ৬০ টাকা।

কিভাবে খাওয়া দাওয়া করবেন-

খাবার নিয়ে পার্কে প্রবেশ সম্পুর্ণ নিষেধ।তাই অনিচ্ছাকৃত ভাবে একটু চড়াদামে পার্কের ভেতরের দুটি রেস্তোরা থেকে খাবোর ক্রয় করে খেতে হবে বাঘ পর্যবেক্ষণ রেস্তোরা ও সিংহ পর্যবেক্ষণ রেস্তোরা, রেস্তোরায় বসে খেতে খেতে কাচের দেয়ালের ওপাশে বাঘ/সিংহ অবলোকন করতে পারবেন সহজেই।

এ ছাড়া ফটকের বাইরে কিছু রেস্টুরেন্ট আছে সেখান থেকে খেয়ে নিতে পারেন ইচ্ছেমত।

কোথায় থাকবেন-

ঘোরাফেরা খাবার দাবারের পর বিশ্রাম বা রাত্রি যাপনের জন্য পার্কে রয়েছে পরিপাটি বিশ্রামাগার, অবশ্যই আগে থেকে বুকিং দিয়ে রাখতে হবে।দূর থেকে আসলে গাজীপুর চৌরাস্তায় এসে যে কোন হোটেলে রাত্রি যাপন করতে পারেন ভাড়া হতে পারে ৮০০ থেকে ২০০০ টাকা।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন না !

সর্বোপরি সকল সতর্ক বার্তা মেনে চলুন,বন্য প্রাণীদের খাচার কাছে যাবেন না এবং প্রাণীদের কোন রকম বিরক্ত করবেন না।কোন অনৈতিক-অসামাজিক কাজ করবেন না।পলিথন, প্লাস্টিকের বোতল চিপ্স এর খালি পেকেট যেখানে সেখানে ফেলবেন না। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ করবেন না।

—- আপনার ভ্রমন হোক আনন্দময়। —-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *