Vromon Blog

Tour Site

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত । ঐতিহাসিক এই নগর উদ্যান টি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নীরব সাক্ষী হয়ে আছে। পূর্বে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ‘রমনা রেসকোর্স ময়দান’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৪৭  সালের পর এই ময়দানটিকে কখনো কখনো ‘ঢাকা রেসকোর্স’ নামেও ডাকা হতো। সপ্তাহের প্রতি রবিবার এখানে বৈধ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চের ভাষণ এখানেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী এখানে আত্মসমর্পন করে। এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নিরব সাক্ষী হয়ে আছে এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। ১৯৪৮ সালে ২১ শে মার্চ এখানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৬৯ সালে এখানেই বঙ্গবন্ধু উপাধি দেওয়া হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংক্রান্ত যেসব ঐতিহাসিক গঠিত হয়েছে সে সকল ঘটনার ঘটনাকে স্মরণীয় করার জন্য ১৯৯৯ সালে এখানে শিখা চিরন্তন স্থাপন করা হয় এবং তার পাশেই স্বাধীনতা টাওয়ার গড়ে তোলা হয়। ২৭৩ ফুট দীর্ঘ একটি ম্যুরাল এখানকার প্রধান আকর্ষণ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশপথ ৬টি যা উদ্যানটিকে ঘীরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনার পাশেই অবস্থিত। যেমন- ১। ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট শিশু পার্ক সংলগ্ন গেইট, ২।  চারুকলা ইনস্টিটিউট এর বিপরীত পাশের গেইট, ৩। শিশু পার্ক  সংলগ্ন গেইট, ৪। টিএসসি সংলগ্ন গেইট, ৫। শ্রী শ্রী কালী আনন্দময়ী আশ্রম সংলগ্ন গেইট এবং ৬। বাংলা একাডেমির বিপরীতে ও তিন নেতার মাজার সংলগ্ন গেইট।

কি ভাবে যাবেন:

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত, তাই ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আসতে হবে এরপর রিকশায় করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন:

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এর কাছাকাছি বেশ কয়েকটি ভালো মানের হোটেল রয়েছে এসব হোটেলগুলোতে রাত কাটানোর জন্য চমৎকার ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন-

১। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা

ঠিকানা: মিন্টু রোড, ঢাকা-১০০০

ফোন: ০২-৫৫৬৬৩০৩০

২। হোটেল অরনেট

ঠিকানা: বিজয়নগর রোড, ঢাকা-১০০০

ফোন: ০১৮১১-৪০৮৪০২

৩। এশিয়া হোটেল এন্ড রিসোর্টস

ঠিকানা: তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০

ফোন: ০১৮৪৪১৫২৮৪৪

কোথায় খাবেন:

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থায়ী কোনো খাবারের হোটেল বা দোকান নেই। তবে অসংখ্য ভাসমান দোকান পাবেন এসব দোকান থেকে খাবার খেতে পারবেন।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন !

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় এখানে নানা ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়িয়ে চলুন। রাত দশটার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ নিষিদ্ধ তাই তার পূর্বেই উদ্যান ত্যাগ করুন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে পকেটমার ও ছিনতাইকারী থেকে সবসময় সতর্ক থাকবেন।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন না !

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অসামাজিক কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নিষেধ। ধূমপান করবেন না। লেকের পানিতে ময়লা ফেলবেন না। গাছের পাতা ও ফুল ছিঁড়বেন না।

—- আপনার ভ্রমন হোক আনন্দময়। —-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *