Vromon Blog

Tour Site

বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর ঢাকার শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত। ১৯১৩ সালের ২০ শে মার্চ তৎকালীন সচিবালয়ের (বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ) একটি কক্ষে ২০০০ রুপির তহবিল নিয়ে জাদুঘর কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলার তৎকালীন গভর্নর লর্ড কারমাইকেল জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন। ১৯১৫ সালে ২৫ আগস্ট জাদুঘরটি কে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পূর্বে এর নাম ঢাকা জাদুঘর ছিল। ১৯৮৩ সালে এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর রাখা হয়। ১৯৮৩ সালে জাদুঘরটি প্রায় আট একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করা হয়। চারতলা ভবনের তিনতলা জুড়ে ৪৬ টি গ্যালারি রয়েছে। প্রায় ৮৩ হাজারের বেশি নিদর্শন এখানে সংরক্ষিত রয়েছে। জাতীয় জাদুঘরের পাঁচটি বিভাগ রয়েছে। বিভাগগুলি হচ্ছে- ১। ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা, ২। জাতিতত্ত্ব ও অলঙ্করণ শিল্পকলা, ৩। সমকালীন শিল্পকলা ও বিশ্বসভ্যতা, ৪। প্রাকৃতিক ইতিহাস বিভাগ ও ৫। সংরক্ষণ গবেষণাগার। দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক প্রতিদিন জাদুঘর পরিদর্শন করতে আসে।

পরিদর্শনের সময়সূচী:

সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার ও সরকারি ছুটির দিন জাদুঘর বন্ধ থাকে। তবে শহীদ দিবস, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, পহেলা বৈশাখ জাদুঘর খোলা থাকে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত জাদুঘর সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৫ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এবং অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সকাল ৯ টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে শুক্রবার বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত জাদুঘর খোলা থাকে।

টিকেট মূল্য:

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকেট মূল্য ২০ টাকা। ১২ বছরের নিচের দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা। সার্কভুক্ত দেশগুলোর পর্যটকদের প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা এবং অন্যান্য বিদেশীদের জন্য ১০০ টাকা।

কি ভাবে যাবেন:

দেশের যেকোনো স্থান থেকে আপনাকে শাহবাগে আসতে হবে। শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই জাদুঘর অবস্থিত।

কোথায় থাকবেন:

শাহবাগের আশেপাশে অসংখ্য আবাসিক হোটেল রয়েছে। নিজেদের চাহিদা মতো এসকল হোটেলগুলোতে থাকতে পারেন। এদের মধ্যে বেশকিছু ভালো হোটেল রয়েছে। যেমন-

১। ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা

ঠিকানা: মিন্টু রোড ঢাকা-১০০০

ফোন:০২-৫৫৬৬৩০৩০

২। হোটেল সেভেন স্টার

ঠিকানা: ৯৯, বিসিসি রোড, তাতবাড়ী বাজার, বটতলা ঢাকা।

ফোন: ০১৯৭৭-৭৭৫৪৪১

কোথায় খাবেন:

শাহবাগের আশেপাশে অসংখ্য খাবারের হোটেল রয়েছে। এসকল খাবারের হোটেল গুলোতে আপনার চাহিদামত খাবার খেতে পারবে। কিছু উল্লেখযোগ্য রেস্টুরেন্টের মধ্যে রয়েছে- নিউ গ্যাঞ্জেস ফুড অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, গ্রিল কিং, আহনাফ চাইনিজ এন্ড রেস্টুরেন্ট, সাকুরা রেস্টুরেন্ট রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি। এছাড়াও পুরান ঢাকার জনপ্রিয় খাবারগুলো খেতে পারেন বিশেষ করে হাজির বিরিয়ানি।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন !

জাতীয় জাদুঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে ভালো ব্যবহার করবেন।  জাদুঘরের প্রত্যেকটা নিদর্শনের পেছনের ইতিহাস সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবেন।

পরামর্শ যে কাজ গুলো করবেন না !

জাদুঘরের নিদর্শন এর কোনরূপ ক্ষতিসাধন করবেন না। অপরিচিত কোন মানুষের দেওয়া কিছু খাবেন না। কারো সাথে বিতর্কে বা ঝগড়ায় জড়াবেন না।

—- আপনার ভ্রমন হোক আনন্দময়। —-

2 thoughts on “জাতীয় জাদুঘর(National Museum)

  1. Hi there! This is my first comment here so I just wanted to give a quick shout out and tell you I really enjoy reading through your articles. Can you recommend any other blogs/websites/forums that deal with the same topics? Thank you! Roxi Thadeus Zebe

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *